ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের (SEO) জগতে সফলতার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ একটি অপরিহার্য ভিত্তি। আপনি যদি একটি ব্লগ, ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা কোনো ব্যবসায়িক সাইট পরিচালনা করেন, তাহলে সঠিক কিওয়ার্ড নির্বাচন আপনার সাফল্যের চাবিকাঠি।
এই সম্পূর্ণ গাইডে আমরা জানবো কিওয়ার্ড রিসার্চ কি, এর প্রকারভেদ, এবং কীভাবে কার্যকরভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা যায় তার বিস্তারিত।
কিওয়ার্ড রিসার্চ কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কিওয়ার্ড রিসার্চ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমরা সেই সব শব্দ এবং বাক্যাংশগুলো খুঁজে বের করি যা মানুষ সার্চ ইঞ্জিনে টাইপ করে তথ্য, পণ্য বা সেবা খুঁজে পেতে। এটি মূলত আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কী খুঁজছে তা বোঝার একটি পদ্ধতি।
সহজ ভাষায়, যখন কেউ গুগলে “সেরা মোবাইল ফোন” বা “কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করতে হয়” লিখে সার্চ করে, তখন এই শব্দগুলোই হলো কিওয়ার্ড। কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কোন কোন শব্দে মানুষ বেশি সার্চ করছে এবং কোন কিওয়ার্ডগুলো টার্গেট করলে আপনার ওয়েবসাইটে বেশি ভিজিটর আসবে।
কিওয়ার্ড রিসার্চ কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?
১. সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্কিং উন্নত করে: সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করলে আপনার কন্টেন্ট গুগলের প্রথম পাতায় আসার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। গবেষণা অনুযায়ী, গুগল সার্চের প্রথম রেজাল্টে গড়ে ২৮.৫% ক্লিক রেট থাকে।
২. টার্গেটেড ট্রাফিক আনে: কিওয়ার্ড রিসার্চ আপনাকে এমন ভিজিটর আনতে সাহায্য করে যারা আসলেই আপনার কন্টেন্ট বা পণ্যে আগ্রহী। এতে বাউন্স রেট কমে এবং কনভার্শন রেট বৃদ্ধি পায়।
৩. কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে সাহায্য করে: কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার অডিয়েন্স কী ধরনের কন্টেন্ট চায়। এতে আপনি প্রাসঙ্গিক এবং মূল্যবান কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন।
৪. প্রতিযোগিতা বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে: কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস ব্যবহার করে আপনি দেখতে পারবেন আপনার প্রতিযোগীরা কোন কিওয়ার্ডে র্যাঙ্ক করছে এবং কোথায় আপনার সুযোগ রয়েছে।
৫. ROI বৃদ্ধি করে: সঠিক কিওয়ার্ড টার্গেট করলে আপনার মার্কেটিং বাজেট সঠিক জায়গায় ব্যয় হয় এবং বিনিয়োগের রিটার্ন বৃদ্ধি পায়।

কিওয়ার্ড রিসার্চ কত প্রকার ও কি কি?
কিওয়ার্ড রিসার্চে বিভিন্ন ধরনের কিওয়ার্ড রয়েছে যা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ধরনের কিওয়ার্ডের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার রয়েছে।
১. শর্ট-টেইল কিওয়ার্ড (Short-Tail Keywords)
শর্ট-টেইল কিওয়ার্ড হলো এক থেকে দুই শব্দের ছোট কিওয়ার্ড যা খুবই সাধারণ এবং ব্রড টপিক কভার করে। এই ধরনের কিওয়ার্ডে সার্চ ভলিউম অনেক বেশি কিন্তু প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি।
উদাহরণ: “মোবাইল”, “SEO”, “ল্যাপটপ”
বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ সার্চ ভলিউম (মাসে হাজার বা লাখো সার্চ)
- খুবই প্রতিযোগিতামূলক
- র্যাঙ্ক করা কঠিন
- কনভার্শন রেট তুলনামূলক কম
শর্ট-টেইল কিওয়ার্ড ব্র্যান্ড সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশাল অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর জন্য ভালো।
২. লং-টেইল কিওয়ার্ড (Long-Tail Keywords)
লং-টেইল কিওয়ার্ড হলো তিন বা তার বেশি শব্দের সুনির্দিষ্ট বাক্যাংশ যা কম সার্চ ভলিউম কিন্তু কম প্রতিযোগিতা এবং বেশি কনভার্শন রেট প্রদান করে।
উদাহরণ: “১০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা মোবাইল ফোন”, “কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করতে হয় বাংলায়”
বৈশিষ্ট্য:
- কম সার্চ ভলিউম
- কম প্রতিযোগিতা
- র্যাঙ্ক করা সহজ
- উচ্চ কনভার্শন রেট
- সুনির্দিষ্ট সার্চ ইন্টেন্ট
লং-টেইল কিওয়ার্ড নতুন ওয়েবসাইট এবং ব্লগারদের জন্য আদর্শ কারণ এগুলো দ্রুত র্যাঙ্ক করা যায়।
৩. লোকাল কিওয়ার্ড (Local Keywords)
লোকাল কিওয়ার্ড হলো এমন কিওয়ার্ড যা নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকার সাথে সম্পর্কিত। এগুলো লোকাল ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: “ঢাকার সেরা রেস্তোরাঁ”, “চট্টগ্রামের মোবাইল শপ”, “সিলেটে ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং”
ব্যবহার: লোকাল বিজনেস, রেস্তোরাঁ, দোকান, সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
৪. ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড (Branded Keywords)
ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড হলো এমন শব্দ যা আপনার কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের নাম অন্তর্ভুক্ত করে।
উদাহরণ: “Daraz মোবাইল”, “Pathao food delivery”, “Bkash payment”
বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ কনভার্শন রেট
- কম CPC (যদি পেইড অ্যাড চালান)
- ব্র্যান্ড লয়্যালটি বৃদ্ধি করে
৫. নেতিবাচক কিওয়ার্ড (Negative Keywords)
নেতিবাচক কিওয়ার্ড মূলত পেইড অ্যাডভার্টাইজিং ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হয় যাতে অপ্রাসঙ্গিক সার্চে আপনার বিজ্ঞাপন না দেখায়।
উদাহরণ: যদি আপনি প্রিমিয়াম ল্যাপটপ বিক্রি করেন, তাহলে “ফ্রি” বা “সস্তা” শব্দগুলো নেতিবাচক কিওয়ার্ড হিসেবে যোগ করতে পারেন।
৬. রিলেটেড বা LSI কিওয়ার্ড (Related Keywords)
রিলেটেড কিওয়ার্ড বা LSI (Latent Semantic Indexing) কিওয়ার্ড হলো আপনার মূল কিওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কিত শব্দ ও বাক্যাংশ।
উদাহরণ: মূল কিওয়ার্ড “ওজন কমানো” হলে রিলেটেড কিওয়ার্ড হতে পারে “ডায়েট প্ল্যান”, “ব্যায়াম”, “স্বাস্থ্যকর খাবার”।

কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করতে হয় – সম্পূর্ণ গাইড
কার্যকর কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। নিচে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
ধাপ ১: আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
কিওয়ার্ড রিসার্চ শুরু করার আগে আপনাকে জানতে হবে:
- আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কারা?
- তারা কী ধরনের সমস্যার সমাধান খুঁজছে?
- তাদের বয়স, লোকেশন এবং আগ্রহ কী?
- আপনার লক্ষ্য কি – ব্লগ ট্রাফিক, পণ্য বিক্রয়, নাকি লিড জেনারেশন?
ধাপ ২: সিড কিওয়ার্ড (Seed Keywords) তৈরি করুন
সিড কিওয়ার্ড হলো আপনার নিশের সাথে সম্পর্কিত মূল শব্দগুলো। এই কিওয়ার্ডগুলো থেকেই আপনি আরও কিওয়ার্ড আইডিয়া পাবেন।
উদাহরণ: যদি আপনার নিশ হয় “ডিজিটাল মার্কেটিং“, তাহলে সিড কিওয়ার্ড হতে পারে: SEO, কন্টেন্ট মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।
ধাপ ৩: কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস ব্যবহার করুন
কিওয়ার্ড আইডিয়া এবং ডেটা পেতে বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করুন। আপনার সিড কিওয়ার্ড টুলসে ইনপুট দিয়ে দেখুন কী কী রিলেটেড কিওয়ার্ড পাচ্ছেন।
ধাপ ৪: সার্চ ভলিউম এবং ট্রেন্ড যাচাই করুন
প্রতিটি কিওয়ার্ডের মাসিক সার্চ ভলিউম দেখুন। সাধারণত:
- ১০০-১,০০০ সার্চ/মাস = মিডিয়াম ভলিউম (নতুনদের জন্য আদর্শ)
- ১,০০০-১০,০০০ সার্চ/মাস = হাই ভলিউম
- ১০,০০০+ সার্চ/মাস = খুবই হাই ভলিউম (অনেক প্রতিযোগিতা)
টিপ: Google Trends ব্যবহার করে দেখুন কিওয়ার্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে নাকি কমছে।
ধাপ ৫: কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি বিশ্লেষণ করুন
কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি (KD) হলো একটি স্কোর যা বলে দেয় কোনো কিওয়ার্ডের জন্য র্যাঙ্ক করা কতটা কঠিন। সাধারণত ০-১০০ স্কেলে পরিমাপ করা হয়।
স্কোর বোঝার উপায়:
- ০-৩০: সহজ (নতুন ওয়েবসাইটের জন্য ভালো)
- ৩১-৬০: মাঝারি (কিছু অথরিটি দরকার)
- ৬১-১০০: কঠিন (হাই অথরিটি সাইটের জন্য)
ধাপ ৬: প্রতিযোগিতা বিশ্লেষণ করুন
গুগলে আপনার টার্গেট কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখুন কারা প্রথম পেজে র্যাঙ্ক করছে। চেক করুন:
- তাদের ডোমেইন অথরিটি কত (MozBar ব্যবহার করুন)
- তাদের কন্টেন্টের কোয়ালিটি কেমন
- কতগুলো ব্যাকলিংক আছে
- কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য কত
টিপ: যদি টপ রেজাল্টগুলোর ডোমেইন অথরিটি ৩০-এর নিচে হয়, তাহলে সেই কিওয়ার্ডে র্যাঙ্ক করা সহজ হবে।
ধাপ ৭: সার্চ ইন্টেন্ট চিহ্নিত করুন
সার্চ ইন্টেন্ট মানে হলো ব্যবহারকারী কেন এই কিওয়ার্ড সার্চ করছে। চার ধরনের সার্চ ইন্টেন্ট আছে:
১. Informational (তথ্যমূলক): ব্যবহারকারী কিছু জানতে চায়
- উদাহরণ: “কিওয়ার্ড রিসার্চ কি”
২. Navigational (নেভিগেশনাল): কোনো নির্দিষ্ট সাইট বা পেজ খুঁজছে
- উদাহরণ: “Facebook login”
৩. Commercial (বাণিজ্যিক): কেনাকাটার আগে তুলনা করছে
- উদাহরণ: “সেরা বাজেট ল্যাপটপ ২০২৫”
৪. Transactional (লেনদেন): কিনতে বা কোনো অ্যাকশন নিতে প্রস্তুত
- উদাহরণ: “অনলাইনে মোবাইল কিনুন”
আপনার কন্টেন্ট অবশ্যই সার্চ ইন্টেন্টের সাথে মিলতে হবে।
ধাপ ৮: কিওয়ার্ড লিস্ট তৈরি এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন
সব ডেটা সংগ্রহ করে একটি স্প্রেডশিটে লিস্ট তৈরি করুন এবং এই ফ্যাক্টর অনুযায়ী সাজান:
- সার্চ ভলিউম
- কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি
- প্রতিযোগিতা
- আপনার ব্যবসার সাথে প্রাসঙ্গিকতা
প্রথমে লো-কম্পিটিশন, মিডিয়াম ভলিউমের কিওয়ার্ড দিয়ে শুরু করুন।

সেরা ফ্রি কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস
কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য অনেক ফ্রি টুলস রয়েছে যা আপনাকে শুরু করতে সাহায্য করবে:
১. Google Keyword Planner
- বিশেষত্ব: সম্পূর্ণ ফ্রি, গুগলের অফিশিয়াল টুল
- ব্যবহার: সার্চ ভলিউম, CPC ডেটা এবং কিওয়ার্ড আইডিয়া পাওয়া যায়
- সীমাবদ্ধতা: ডেটা রেঞ্জে দেওয়া হয় (যেমন ১০০-১,০০০)
২. Ubersuggest
- বিশেষত্ব: ফ্রি প্ল্যানে দিনে ৩টি সার্চ
- ফিচার: কিওয়ার্ড আইডিয়া, সার্চ ভলিউম, SEO ডিফিকাল্টি, কন্টেন্ট আইডিয়া
৩. Answer The Public
- বিশেষত্ব: প্রশ্ন-ভিত্তিক কিওয়ার্ড খুঁজতে দুর্দান্ত
- ব্যবহার: মানুষ কী কী প্রশ্ন করছে তা ভিজুয়াল ফরম্যাটে দেখায়
৪. Google Trends
- বিশেষত্ব: সম্পূর্ণ ফ্রি
- ফিচার: কিওয়ার্ডের জনপ্রিয়তার ট্রেন্ড, লোকেশন-ভিত্তিক ডেটা, তুলনামূলক বিশ্লেষণ
৫. Keyword Surfer (Chrome Extension)
- বিশেষত্ব: ব্রাউজারে সরাসরি সার্চ ভলিউম দেখায়
- ফ্রি ফিচার: সার্চ ভলিউম, CPC, রিলেটেড কিওয়ার্ড
৬. Keywords Everywhere (Chrome Extension)
- বিশেষত্ব: ক্রেডিট-ভিত্তিক পেইড প্ল্যান, কিন্তু সাশ্রয়ী
- ফিচার: গুগল সার্চে সরাসরি কিওয়ার্ড ডেটা দেখায়
পেইড টুলস (বাজেট থাকলে):
- Ahrefs: সবচেয়ে বড় ব্যাকলিংক ডাটাবেস, শক্তিশালী কিওয়ার্ড এক্সপ্লোরার
- SEMrush: অল-ইন-ওয়ান SEO টুল, প্রতিযোগী বিশ্লেষণে দুর্দান্ত
- Moz Keyword Explorer: বিগিনারদের জন্য সহজ ইন্টারফেস
গুগল কিওয়ার্ড রিসার্চ করার নিয়ম
গুগলের ফ্রি টুলস ব্যবহার করে কার্যকর কিওয়ার্ড রিসার্চ করার পদ্ধতি:
১. Google Autocomplete ব্যবহার করুন
গুগল সার্চ বক্সে আপনার সিড কিওয়ার্ড টাইপ করা শুরু করুন এবং দেখুন গুগল কী কী সাজেশন দিচ্ছে। এগুলো আসল মানুষের সার্চ কোয়েরি।
কৌশল:
- কিওয়ার্ডের আগে এবং পরে আন্ডারস্কোর (_) ব্যবহার করে আরও আইডিয়া পান
- উদাহরণ: “_ কিওয়ার্ড রিসার্চ” বা “কিওয়ার্ড রিসার্চ _”
২. “People Also Ask” সেকশন দেখুন
যেকোনো কিওয়ার্ড সার্চ করলে গুগল “মানুষ এটাও জিজ্ঞাসা করে” সেকশন দেখায়। এখান থেকে প্রশ্ন-ভিত্তিক কিওয়ার্ড সংগ্রহ করুন।
৩. “Related Searches” চেক করুন
গুগল সার্চ রেজাল্টের নিচে “সম্পর্কিত সার্চ” সেকশন থেকে রিলেটেড কিওয়ার্ড আইডিয়া পাবেন।
৪. Google Search Console ব্যবহার করুন
যদি আপনার ইতিমধ্যে একটি ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে Google Search Console দেখুন আপনার সাইট কোন কোন কিওয়ার্ডে ইম্প্রেশন এবং ক্লিক পাচ্ছে। যেসব কিওয়ার্ডে ইম্প্রেশন বেশি কিন্তু ক্লিক কম, সেগুলো অপ্টিমাইজ করলে দ্রুত ফলাফল পাবেন।
৫. YouTube সাজেশন ব্যবহার করুন
ইউটিউব সার্চ বক্সেও অটোকমপ্লিট ফিচার আছে। ভিডিও কন্টেন্টের জন্য কিওয়ার্ড খুঁজতে এটি ব্যবহার করুন।
এসইও এর জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ কৌশল
এসইও সাফল্যের জন্য শুধু কিওয়ার্ড খুঁজে পাওয়াই যথেষ্ট নয়, সঠিকভাবে ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কিছু প্রমাণিত কৌশল দেওয়া হলো:
১. কিওয়ার্ড ক্লাস্টারিং করুন
একই টপিকের অধীনে একাধিক রিলেটেড কিওয়ার্ড গ্রুপ করুন। একটি পিলার কন্টেন্ট (বড় গাইড) তৈরি করুন এবং তার সাথে সম্পর্কিত ছোট ছোট ব্লগ পোস্ট লিখুন।
উদাহরণ:
- পিলার কন্টেন্ট: “সম্পূর্ণ SEO গাইড”
- ক্লাস্টার কন্টেন্ট: “অন-পেজ SEO“, “অফ-পেজ SEO”, “টেকনিক্যাল SEO“
২. লং-টেইল কিওয়ার্ডে ফোকাস করুন
নতুন ওয়েবসাইটের জন্য লং-টেইল কিওয়ার্ড দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। এগুলো দ্রুত র্যাঙ্ক করে এবং বেশি কনভার্ট করে।
৩. কন্টেন্ট গ্যাপ খুঁজুন
আপনার প্রতিযোগীরা কোন কিওয়ার্ডে র্যাঙ্ক করছে কিন্তু আপনি করছেন না – এটাই কন্টেন্ট গ্যাপ। Ahrefs বা SEMrush দিয়ে এটি বের করুন এবং সেই টপিকে কন্টেন্ট তৈরি করুন।
৪. সিজনাল কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন
কিছু কিওয়ার্ডের চাহিদা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ে। Google Trends দিয়ে এগুলো চিহ্নিত করুন এবং আগে থেকে কন্টেন্ট তৈরি করুন।
উদাহরণ: “ঈদের শপিং”, “পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান”
৫. ভয়েস সার্চ অপ্টিমাইজেশন
মানুষ ভয়েস সার্চে স্বাভাবিক কথোপকথনের মতো কিওয়ার্ড ব্যবহার করে। প্রশ্ন-ভিত্তিক লং-টেইল কিওয়ার্ড টার্গেট করুন।
উদাহরণ: “আমার কাছে সেরা রেস্তোরাঁ কোথায়”
৬. ফিচার্ড স্নিপেট টার্গেট করুন
যেসব কিওয়ার্ডে ফিচার্ড স্নিপেট (পজিশন জিরো) আছে, সেগুলোতে সুনির্দিষ্ট, সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করুন।
৭. ইমেজ এবং ভিডিও SEO করুন
কিওয়ার্ড শুধু টেক্সটে নয়, ইমেজ alt text এবং ভিডিও ডেসক্রিপশনেও ব্যবহার করুন।

CPC, Search Volume এবং Keyword Difficulty বুঝুন
কিওয়ার্ড রিসার্চে তিনটি মেট্রিক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো বুঝলে আপনি আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
Search Volume (সার্চ ভলিউম) কী?
সার্চ ভলিউম হলো একটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড মাসে গড়ে কতবার সার্চ করা হয় তার সংখ্যা। এটি কিওয়ার্ডের জনপ্রিয়তা বোঝায়।
বিশ্লেষণ:
- হাই ভলিউম (১০,০০০+): বেশি ট্রাফিক পটেনশিয়াল কিন্তু প্রতিযোগিতা বেশি
- মিডিয়াম ভলিউম (১০০-১০,০০০): ভারসাম্যপূর্ণ, বেশিরভাগ ব্লগারের জন্য আদর্শ
- লো ভলিউম (০-১০০): নিশ কিওয়ার্ড, লক্ষ্যভিত্তিক ট্রাফিক
মনে রাখবেন: শুধু হাই ভলিউমের পেছনে ছুটবেন না। অনেক লো ভলিউম কিওয়ার্ড মিলে বিশাল ট্রাফিক আনতে পারে।
CPC (Cost Per Click) কী?
CPC মানে হলো প্রতি ক্লিকের খরচ – অর্থাৎ Google Ads-এ কেউ যদি এই কিওয়ার্ডে বিজ্ঞাপন দেয়, তাহলে প্রতিটি ক্লিকের জন্য কত টাকা দিতে হবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
- হাই CPC মানে সেই কিওয়ার্ডের বাণিজ্যিক মূল্য বেশি
- যদি CPC বেশি হয়, তাহলে বুঝবেন মানুষ সেই কিওয়ার্ড থেকে কিছু কিনতে আগ্রহী
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের জন্য হাই CPC কিওয়ার্ড ভালো
উদাহরণ:
- “ডিজিটাল মার্কেটিং কি” – লো CPC (ইনফরমেশনাল)
- “ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স কিনুন” – হাই CPC (ট্রানজেকশনাল)
Keyword Difficulty (কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি) কী?
Keyword Difficulty (KD) হলো একটি স্কোর যা বলে দেয় কোনো কিওয়ার্ডের জন্য অরগানিকভাবে টপ ১০-এ র্যাঙ্ক করা কতটা কঠিন।
স্কোর ব্যাখ্যা (০-১০০):
- ০-২০: খুবই সহজ – নতুন সাইট সহজেই র্যাঙ্ক করতে পারবে
- ২১-৪০: সহজ – কিছু কোয়ালিটি কন্টেন্ট এবং বেসিক SEO দরকার
- ৪১-৬০: মাঝারি – ভালো কন্টেন্ট এবং কিছু ব্যাকলিংক দরকার
- ৬১-৮০: কঠিন – হাই অথরিটি সাইটের প্রয়োজন
- ৮১-১০০: অত্যন্ত কঠিন – শুধু বড় ব্র্যান্ডই র্যাঙ্ক করতে পারে
সঠিক ভারসাম্য খুঁজুন: আদর্শ কিওয়ার্ড হলো যেখানে ডিসেন্ট সার্চ ভলিউম আছে কিন্তু কম থেকে মাঝারি ডিফিকাল্টি।
SERP Analysis এবং Search Intent কি?
SERP Analysis (সার্প এনালাইসিস) কী?
SERP মানে Search Engine Results Page – অর্থাৎ যখন আপনি কিছু সার্চ করেন তখন যে পেজ দেখেন। SERP Analysis মানে হলো সেই রেজাল্ট পেজ বিশ্লেষণ করা।
SERP Analysis কেন করবেন? ১. বুঝতে পারবেন কোন ধরনের কন্টেন্ট র্যাঙ্ক করছে (ব্লগ, ভিডিও, প্রোডাক্ট পেজ) ২. প্রতিযোগীদের কন্টেন্ট কোয়ালিটি দেখতে পারবেন ৩. কী ধরনের ফিচার আছে (ফিচার্ড স্নিপেট, People Also Ask, ইমেজ প্যাক)
কীভাবে SERP Analysis করবেন:
১. টপ ১০ রেজাল্ট দেখুন:
- কন্টেন্টের টাইপ কী (গাইড, তালিকা, প্রোডাক্ট রিভিউ)?
- কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য কত?
- কী কী সাবটপিক কভার করা হয়েছে?
২. SERP ফিচার চেক করুন:
- Featured Snippet আছে কি?
- Video carousel আছে কি?
- People Also Ask বক্স আছে কি?
- Local pack আছে কি?
৩. ডোমেইন অথরিটি দেখুন:
- MozBar এক্সটেনশন দিয়ে DA/PA চেক করুন
- কম DA সাইট র্যাঙ্ক করলে আপনার সুযোগ বেশি
৪. ব্যাকলিংক প্রোফাইল দেখুন:
- Ahrefs বা Ubersuggest দিয়ে দেখুন টপ পেজগুলোর কতগুলো ব্যাকলিংক আছে
Search Intent (সার্চ ইন্টেন্ট) কী?
Search Intent হলো ব্যবহারকারী কেন এই কিওয়ার্ড সার্চ করছে – তার উদ্দেশ্য কী। এটি SEO-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।
চার ধরনের Search Intent:
১. Informational Intent (তথ্যমূলক):
- ব্যবহারকারী কিছু শিখতে বা জানতে চায়
- উদাহরণ: “কিওয়ার্ড রিসার্চ কি”, “SEO কিভাবে কাজ করে”
- কন্টেন্ট টাইপ: ব্লগ পোস্ট, গাইড, টিউটোরিয়াল, ইনফোগ্রাফিক
২. Navigational Intent (নেভিগেশনাল):
- ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইট বা পেজ খুঁজছে
- উদাহরণ: “Facebook login”, “YouTube”
- কন্টেন্ট টাইপ: হোমপেজ, লগইন পেজ
৩. Commercial Investigation Intent (বাণিজ্যিক তদন্ত):
- ব্যবহারকারী কিনতে চায় কিন্তু আগে তুলনা করতে চায়
- উদাহরণ: “সেরা ল্যাপটপ ২০২৫”, “Ahrefs vs SEMrush”
- কন্টেন্ট টাইপ: রিভিউ, তুলনা, “সেরা” তালিকা
৪. Transactional Intent (লেনদেন):
- ব্যবহারকারী কিনতে বা কোনো অ্যাকশন নিতে প্রস্তুত
- উদাহরণ: “মোবাইল কিনুন অনলাইনে”, “ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন”
- কন্টেন্ট টাইপ: প্রোডাক্ট পেজ, সার্ভিস পেজ, প্রাইসিং পেজ
Search Intent কীভাবে চিহ্নিত করবেন:
১. কিওয়ার্ডের শব্দ দেখুন:
- “কি”, “কেন”, “কীভাবে” = Informational
- “সেরা”, “টপ”, “রিভিউ” = Commercial
- “কিনুন”, “ডাউনলোড”, “সাইন আপ” = Transactional
২. SERP দেখুন:
- গুগলে সার্চ করে দেখুন কোন ধরনের কন্টেন্ট র্যাঙ্ক করছে
- যদি টপ রেজাল্টে ব্লগ পোস্ট থাকে = Informational
- যদি প্রোডাক্ট পেজ থাকে = Transactional
৩. আপনার কন্টেন্ট Search Intent-এর সাথে মিলান:
- ভুল Intent এর কন্টেন্ট কখনো র্যাঙ্ক করবে না
- যদি মানুষ তথ্য খুঁজছে, প্রোডাক্ট পেজ র্যাঙ্ক করবে না

নিশ কিওয়ার্ড রিসার্চ করার সঠিক উপায়
নিশ কিওয়ার্ড হলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং টার্গেটেড কিওয়ার্ড যা একটি ছোট কিন্তু উৎসাহী অডিয়েন্সকে টার্গেট করে। এগুলো প্রতিযোগিতা কম এবং কনভার্শন রেট বেশি।
নিশ কিওয়ার্ড খুঁজে পাওয়ার উপায়:
১. আপনার নিশ গভীরভাবে বুঝুন
- আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের সমস্যাগুলো কী?
- তারা কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য খুঁজছে?
- কোন প্রশ্নের উত্তর তারা পাচ্ছে না?
২. ফোরাম এবং কমিউনিটি ব্রাউজ করুন
- Reddit, Quora, Facebook Groups দেখুন
- মানুষ কী নিয়ে আলোচনা করছে এবং কী প্রশ্ন করছে তা নোট করুন
- এসব প্রশ্নই হতে পারে চমৎকার নিশ কিওয়ার্ড
৩. “Seed Keyword + Modifier” ব্যবহার করুন Modifiers যোগ করে ব্রড কিওয়ার্ডকে নিশ কিওয়ার্ডে পরিণত করুন:
- স্থান: “ঢাকায় ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স”
- সময়: “২০২৫ সালের সেরা SEO টুলস”
- দাম: “৫০০০ টাকার মধ্যে মোবাইল”
- কোয়ালিটি: “প্রিমিয়াম ওয়ার্ডপ্রেস থিম”
- তুলনা: “Shopify vs WooCommerce বাংলাদেশে”
৪. Amazon এবং E-commerce সাইট দেখুন
- প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি এবং সাব-ক্যাটাগরি দেখুন
- কাস্টমার রিভিউতে মানুষ কী শব্দ ব্যবহার করছে তা দেখুন
- প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন থেকে আইডিয়া নিন
৫. Wikipedia এবং Industry Glossaries ব্যবহার করুন
- আপনার নিশের Wikipedia পেজের Table of Contents দেখুন
- প্রতিটি সাবসেকশন হতে পারে একটি কিওয়ার্ড আইডিয়া
৬. প্রতিযোগীদের “লং-টেইল ফুটপ্রিন্ট” খুঁজুন
- Ahrefs বা SEMrush দিয়ে প্রতিযোগীদের সব কিওয়ার্ড দেখুন
- যেসব লো ভলিউম কিওয়ার্ডে তারা র্যাঙ্ক করছে সেগুলো নোট করুন
- এগুলো প্রায়ই নিশ কিওয়ার্ড
কিওয়ার্ড রিসার্চ শেখার কার্যকর পদ্ধতি
কিওয়ার্ড রিসার্চ একটি স্কিল যা অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নত হয়। নিচে কিছু কার্যকর শেখার পদ্ধতি দেওয়া হলো:
১. প্র্যাকটিকাল প্রজেক্ট শুরু করুন
শুধু থিওরি পড়লে হবে না। একটি নিশ বেছে নিন এবং সত্যিকারের কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন। একটি স্প্রেডশিট তৈরি করুন এবং ১০০+ কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন।
২. দৈনিক ১৫-৩০ মিনিট অনুশীলন করুন
প্রতিদিন ৫-১০টি নতুন কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন। বিভিন্ন নিশে এক্সপেরিমেন্ট করুন। এক মাসে আপনি ১৫০-৩০০ কিওয়ার্ড রিসার্চ করে ফেলবেন এবং দক্ষ হয়ে উঠবেন।
৩. কেস স্টাডি বিশ্লেষণ করুন
সফল ব্লগ এবং ওয়েবসাইট স্টাডি করুন। Ahrefs বা Ubersuggest দিয়ে দেখুন তারা কোন কিওয়ার্ডে র্যাঙ্ক করছে এবং কেন সফল হয়েছে।
৪. ফ্রি অনলাইন কোর্স করুন
- Ahrefs Academy (সম্পূর্ণ ফ্রি)
- SEMrush Academy (সার্টিফিকেটসহ ফ্রি)
- Google Digital Garage
- HubSpot Academy
৫. SEO কমিউনিটিতে যুক্ত হন
Facebook Groups, Reddit (r/SEO), Twitter-এ SEO এক্সপার্টদের ফলো করুন। প্রশ্ন করুন এবং অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন।
৬. নিয়মিত ব্লগ এবং রিসোর্স পড়ুন
- Ahrefs Blog
- Moz Blog
- Search Engine Journal
- Backlinko
৭. A/B টেস্টিং করুন
বিভিন্ন ধরনের কিওয়ার্ড নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করুন এবং দেখুন কোনগুলো ভালো পারফর্ম করছে। ডেটা থেকে শিখুন।
৮. নিজের ভুল থেকে শিখুন
শুরুতে ভুল হবেই। কিছু কিওয়ার্ড র্যাঙ্ক নাও করতে পারে। Analytics ডেটা দেখুন, বুঝুন কী ভুল হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই ভুল এড়িয়ে চলুন।
শেষ কথা
কিওয়ার্ড রিসার্চ হলো SEO এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভিত্তি। সঠিক কিওয়ার্ড নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবহার আপনার ওয়েবসাইট, ব্লগ বা ব্যবসার সাফল্য নির্ধারণ করতে পারে।
মনে রাখবেন, কিওয়ার্ড রিসার্চ একটি চলমান প্রক্রিয়া – এটি একবার করলেই শেষ নয়। মার্কেট ট্রেন্ড পরিবর্তন হয়, মানুষের সার্চ প্যাটার্ন বদলায়, নতুন কিওয়ার্ড জনপ্রিয় হয়। তাই নিয়মিত কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন এবং আপনার স্ট্র্যাটেজি আপডেট করুন।
এই গাইডে দেওয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে আপনি একজন দক্ষ কিওয়ার্ড রিসার্চার হতে পারবেন। ধৈর্য ধরুন, অনুশীলন করুন এবং ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত নিন। সফলতা আসবেই।
আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চ যাত্রা শুভ হোক!
আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক এবং সার্চ র্যাঙ্ক দ্রুত বাড়াতে চান? DigitalCrop-এর প্রফেশনাল SEO সার্ভিসের সাহায্যে আপনার ব্যবসাকে অনলাইনে এগিয়ে নিয়ে যান। আজই যোগাযোগ করুন এবং আপনার সাইটের জন্য কাস্টম SEO স্ট্র্যাটেজি তৈরি করুন!
